ডকুমেন্টরি

চোখের সামনে কয়েকটা তারা জলে উঠেই আবার নিভে গেলঋতুর ঘুম ভাংলো সহসাইতাকাবার চেষ্টা করতেই মনে পরলো অর্থব কাজ যা সে করে ফেলেছেএখন আর উপায় কই
ঋতু এখন একটা বেসরকারি হাসপাতালে বন্ধিঋতু খুনিচক্ষু খুনিনিয়তি খুনিঋতু খুন করেছে নিজের দৃষ্টি শক্তিকেকাটা চামচ ঢুকিয়ে ধ্বংস করেছে নিজের দুটো চোখশুধুমাত্র সাইকোলজি ? তাহলে ঋতু সাইকো কেন ?
ঋতু একটু ওঠার চেষ্টা করতেই বুঝতে পারলো, অতিরিক্র ড্রাগে শরির ধরে গিয়েছেএখন দুর্বলতা গিলে খাচ্ছে সক্রিয় কোষগুলোকেনড়াচড়াটাই সর্বোচ্চ, উঠে বসা যুদ্ধের শামীলপরাজয় নিশ্চিত

দৃষ্টিশক্তি হারানোর কয়েক সেকেন্ডের ভিতরে বাকি ৫ টা ইন্দ্রিয়ে কার্যক্ষমতা বেড়ে যায়শ্রবন শক্তিতে ঋতু বুঝতে পারলো কক্ষে নার্সের প্রবেশনার্স একটা কাশি দিলবললো 
" আমি কি আপনাকে একটু ছুয়ে দেখবো ? " ঋতু মাথা ঝাকালোনার্স পড়িক্ষা করে ,ড্রাগ দিয়ে গেলঋতুর আর ঘুমোতে চাচ্ছে নামনোভাব প্রকাশ করলো  
" সেটা খুব ভালো হত, যদি আপনি ঘুমের ড্রাগটা এবেলা না দিতেন "
" আপনার সুস্থ হতে দেরি হবে, ওটা দরকারী খুববোঝা উচিত আপনার "
ঋতু হাত ইশারা দিয়ে যেতে বললো আর বিরক্তিকর শব্দ করে মাথার নিচে হাত রেখে ভাবনায় হারিয়ে গেলআবার ঘুমিয়ে গেল

@@@@@
রাত না দিন বোঝার কোনো উপায় আছেফ্যানের শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দই পাওয়া যাচ্ছে নাকিন্তু এটা রাত না দিন জানা খুব প্রয়োজনিয় হয়ে উঠছে ঋতুর কাছেকক্ষে কেউ একজন প্রবেশ করেছে বুঝতে পেরে ঋতু কৌতুহল প্রকাশ করলো   " নার্স এখন দিন না রাত "
" শুধু রাত না গভির রাত "
" গভির রাত বলে কোনো কথা নেই, বিভিন্ন আধারের বিভিন্ন নামআপনি বলুন কটা বাজে আমি বলছি এই আধারের কি নাম "
" রাত তিনটা "
" আপাতত নিশি, কিছুক্ষন পরে হবে তিথিভোরের আগে আগে যখন তারাও থাকে,চাদও থাকে আবার আলোও বাড়ে বাড়ে সেটা হলো তিথি "
" আপনি কবিতা-টবিতা লেখেন বুঝি ? "
" কবিতা কিছু লিখিটবিতা আগে কখনো শুনিনি "
মেয়েটা হাসছেহাসির শব্দ কানে আসতেই ঋতুর মাথায় চিন চিন ব্যাথা শুরু হলোমেয়েটা কিতসু জিজ্ঞেস না করে, ঋতুর মাথা উচু করে মুখে সিরাপ ভরে দিলঋতু ঘুমাবে না, নিশীযাপন করবে বলে ঠিক করলো
" ঘুমের ড্রাগটা না দিয়ে আপনি আমার প্রচন্ড উপকার করতে পারেনরাজী আপনি ?"
" কিন্তু আপনি যদি না ঘুমোন তাহলেতো আমাকেও সারারাত জেগে থাকতে হবেআপনি কবি মানুষ, কতকিছু ভেবে রাত পার করে দিবেনআমি আর আমার অন্তঃসার শুন্য মাথা কি করে সময় পার করবে শুনি ?
" কেন আপনাকে জাগতে হবে কেন "
" আপনি বেসরকারি হস্পিটালে আছেন, এখানের নিয়ম এটা "
" তাহলে দিন, খাইয়ে "
" আপনি যদি আমার সাথে গল্প করেন, দু চারটে কবিতা শুনান তাহলে আমিও জাগতে পারি "
" গল্প কবিতার লোভে কেউ রাত জাগে নাকি ?"
" না মানে আসলে জীবনে তিথি দেখিনিতোভাবলাম যার কাছে জানলাম তার সাথেই দেখি "
" হিমনাম কি আপনার ? "
" মোহনা "
" মিথুন-মোহনা  কবিতা পড়েছেন ?"
" নাহ কার লেখা ? "
" হবে কারও একজনের, একটা ডায়েরিতে পেয়েছিলামভেবেছি বিখ্যাত কারও আর হ্যা, আপনার নামটা বেশ সুন্দর "
" আপনারটাও, ঋতু , কত সুন্দর অর্থ "
" মোহনা আপনি কি চুইমগাম খাচ্ছেন ? "
" না- পান খাচ্ছিখাবেন ? "
" মাথা ঘুরলে কে টিপে দিবে ? "

মোহনা চুপটি মেরে থাকলোঅনেকক্ষন কোন কথা বললো নাবেডে এসে বসতেই কম্পন লক্ষ করে ঋতু মাথা উচু করে তাকালোমোহনা বললো,
" প্রথমে আপনার কথা শুনে খুব ভয় হয়েছিল
একটু হেসে ঋতু বললো, " যে লোক নিজের চোখ নিজে অন্ধ করে সে না জানি কত ভয়ংকর "
" ঠিক তাই, কিন্তু আপনাকে দেখে পুরো ভয় কেটে গেল, নিশী থেকে তিথি যেমন আসে তেমন সাহস আসলো "
" এতক্ষন তিথী দেখে কি মনে হলো, মোহনা ?"
" আমাদের কাছে স্কুল, অফিসের চাপে সকাল যেমন বিরক্তিকর, পাখিদের কাছে তিথিও তেমন"
" বাহ, মোহনা, আপনি অনেক সুন্দর করে ভাবতে পারেন "
" না, আমি গাধী মেয়ে-ছেলেবলি, আপনার ঘটনাটা আমাকে বলবেন ? "
" মোহনা, আমি সাধারনত মেয়েদের বিশ্বাস করিনাকথাও বলিনাআমার বন্ধুও নেইকিন্তু কেন যেন আপনাকে বিশ্বাস না করে উপায় দেখছি নাআচ্ছা পাশে বসুনআমিতো আপনাকে দেখতে পারছিনা, আপনার গায়ের স্মেলে আপনার উপস্থিতি বুঝতে পারবো
মোহনা এসে ঋতুর একদম পাশে বসলোকৌতুহলি চোখে চেয়ে তাকালো
" আরও কয়েকজনের মত, আমিও একজনকে ভালোবাসতামতার ঠিক কি ভালোলাগতো জানিনা হয়তো সবই ভালো লাগতোসে আমাকে নিয়ে খুব ভাবতোআর আমি বরাবরই উদাসীও আমাকে নিয়ে এত বেশী ভাবতো যে ভাবনাগুলো প্রচুর সন্দেহ আর প্রশ্নের জন্ম দিত, সেগুলোর ভুল প্রমানিত করা আর উত্তর দিতে দিতে গোটা প্রেমনয় জীবনটা কেটে গেলওর ভাবনায় নিজেকে এতটাই ভাসালাম যে ওকে নিয়ে ভাবার সময়-ই পাই নি "
মোহনা ঋতুর হাত ধরে হালকা চাপ দিলঋতুকে থামিয়ে দিল
" ঋতুআপনি ব্যপারটা বুঝতে পেরেছেন সেজন্য আপনাকে স্বান্তনা পাওয়া উচিতআমার মনে হয় না ওই সময়টাতে আপনি শান্ত ছিলেন "
" যদিও আমি অবাক হচ্ছি পুরো না শুনে আপনি সেন্স তা ধরলেন কিভাবে, কিন্তু আমি আধ্যান্তিকতায় বিশ্বাস করি"

মোহনা আবার হাত ধরে চাপ দিলআর ঋতু বলে চললো, প্রেমের কাহিনি, পরিচয় থেকে মেলামেশা, সেখান থেকে প্রেম,ভালোবাসা, দেখা,অনুভুতি সব শুনালোসকাল হয়ে গেলআর মোহনার সময়ও শেষ হয়ে এলমোহনা বিদায় নিয়ে চলে গেলআর ঋতু মুহুর্ত গুনতে লাগলো কাল কবে আসবে, আবার বাকি গল্পটা শুনাতেনিজেকে অনেকটা হালকা লাগছে, চাপা বেদনা থেকে একটা মুক্তি দরকার

@@@@@
দিন শেষ হয়ে গেলআবার নতুন একটা নিষ্পাপ রাত নেমে এলকে বলে রাতে সব আজেবাজে পাপ হয়এই যে রাতেও কত গল্প ভেঙ্গে পরে আকাশ বেয়ে
" নার্স, আপনি নিশ্চয়ই মোহনা না, অন্য কেউআমি ঠিক বলেছি তাইতো ? " ঋতু বললোকেউ একজন ঘরে ঢুকতেই
" না, একদমই নাকবিরাও ভুল করে " মোহনা ব্যাগ রেখেই কথাটা বললো আর ঋতুর পাশে গিয়ে বসলো

ঋতু খুব খুশি হলো মোহনার আগমনে, মোহনা বলে কথা না আসলে ঋতু যে তার মনের ব্যার্থতা কারও কাছে বলতে পেরেছে, সে শুনেছে, বুঝেছে আর সেই মানুষটার আগমনে সে খুশিপরে কিছুক্ষন চললো ঋতুর সারাদিনের আলস্যে কাটা সময়ের বিবৃতিআর মোহনার কর্মমুখর ব্যস্ততার পাশাপাশি ঝরে পরা কড়া মেজাজপরে সব এল শান্ত হয়ে, রাত গেল বেড়েআবার যখন নিশী নেম এল পুরোপুরি ঋতু বলে গেল তার গল্পগুটুসুটি শুনে গেল নিরব দর্শক
" মোহনা, আমার কবিতার চর্চা ওই সময়ে শুরুআর ও দেখতে যে কোনো কাল্পনিক নায়িকার মতওকে নিয়েই লেখালেখি বেশ হতহয়তো নতুন কিছু ভালোলাগলো সেটা নিয়েও বেশ লিখতামআমাদের সংসার চলতে লাগলো ফোনে-ফোনেনিয়ম করে এক সময়ে ফোন দেওয়াএকটু এদিক সেদিক হলে তার অভিমানমাঝে হটাত সময় বের করে ঘুরতে যাওয়া, আর এভাবেই কেটে গেল তিনটে বছর "
" বাহ,কত সুন্দর ভালোবাসা, এমনি করে যেন সবাই নিজেকে নিয়েই মেতে থাকে"
" আসলে মোহনা , সব নদীতো আর একই বেগে একই পথে চলে না "
" হিমএকটা কথা কি জান ঋতু, সব-ই ঠিক থাকে, কিন্তু হাতটা একদিন ঠিক-ই খুলে দিতে হয় "
" মোহনা, আমি যদি এখন কাদি, তাহলে কি আমার চোখের সমস্যা হবে "
"
হ্যা হ্যাএকটুও কাদবে না, ঋতু "
" আচ্ছা, তাহলে বলআমায় ছেড়ে কখনোই যাবেনাসারা জীবন এই বাজে গল্পটা শুনবেতবুও হাত খুলে দিবেনা "
" আচ্ছা যাবনা "
" মোহনা, আমি তোমাকে মেঘ বলে ডাকি "
" ডাক, মেঘ শুনতেতো বেশ ভালোলাগে, আমারো লাগবে"
" মেঘ তুমি খুব ভালো "

এসকাল শেষ হয়ে গেলপরপর দুদিন মেঘ এলনাআসার কথাও নাআগেই বলে গেছেতিন দিনের মাথায় আবার এলএসে প্রতিনিয়ত কাজটা শেষ করে,ঋতুকে খাট থেকে নামালো, জালনার পাশে নিয়ে বসালোহাতে চায়ের কাপ ধরিয়ে দিলনিজে এক-কাপ নিয়ে নিশীযাপন করলো আর ঋতুর গল্পে ধ্যানমগ্ন করলো
" তারপর একদিন আমার শহরে ঝড় এলহটাত করেই ও আমাকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিলও বলে দিল নতুন বছরে ও আমাকে চায় নাআমি অসহায় হয়ে গেলামপা ধরলাম, অনুরোধ করলামআর নাম না জানা অনেক কাজ করলাম যেগুলো আগে পরে কেউ করেছে বলে মনে হয় নাবাসার টিকটিকিটা জানে মোহনা আর আজ তুমি জানলে আমি এমন কিতসু নেই যা অর জন্য করিনিআমি ওকে ভালোবাসি কিন্তু ও আমাকে বুঝলো না "
" থাক ঋতু , আজকে থাকগান শুনবে ? "
" গাওতো, All Beauty You Contains এটা গাও "
" এটাতো আমি জানিনা ঋতু, কিসব গানের নাম বল, তার আমি কিছুই আগে শুনিনিকিন্তু গানের কথাটা কিন্তু অসাধারনপ্রত্যেকটা সৌন্দর্য তুমি লালন কর "

সেদিনো চলে গেল বিরহের কথায়দু দিন বন্ধ দিয়ে আবার এল মেঘঋতুর হাসপাতাল ছাড়ার সময় এসেছেপ্রথমে ভেবেছিল চোখ ভালো করবে না অন্ধ হয়েই থাকবেডাক্তার ঋতুর ঘনিষ্ট বন্ধু প্রচুর অনুরোধ করেও রাজি করাতে পারিনিকিন্তু মোহনার সাথে পরিচয় হবার পর চোখ ভালো করতে ইচ্ছে করছেনতুন করে বাচতে ইচ্ছে হচ্ছে

@@@@
"
ঋতু, এখানের ডাক্তার তোমার বিশেষ পরিচিত বুঝি ? " মোহনা ড্রাগ দিয়েই জিজ্ঞেস করলো
" হ্যা, ছোটবেলাকার বন্ধুভালো মানুষ খুব "
" আচ্ছা ঋতু  উঠে আসুন, জালনায় বসি "
" আসলে মানুষের জীবনে কিছু সত্য লুকিয়ে থাকে, ওটাকে আমরা বাস্তবতা বলে জ্ঞান করিচারদেয়ালের জীবনে আমরা কত কৃতকলাপে লিপ্ত থাকিজানিনা এর ফলাফল কি, আসন্ন কি ? আলস্যে কাটা সময় পেরিয়ে , উঠোন পেরিয়ে দু পা এগিয়ে জালনা খুলে দেই, আর সামনে ভেসে ওঠে বিশাল আকাশকত বাড়ি, কত মানুষকত নতুন রহস্যকিন্তু কিচ্ছুক্ষন আগেও আমরা এই রহস্য সমন্ধে অবগত ছিলাম না"
" বলেছো, তো বেশবাসায় গিয়ে এটা নিয়ে ভাববো "
"
ওমা,আবার ভাববে কিভাবে? সব কথা মনে থাকবে ""
" না-মানে থাকবেগাধা আমিঅতো গাথা নাবাদ দেওয়া যাক বিষয়টা, আমরা অসমাপ্ত গল্পে আসিএটা মনে হয় শেষ অংশ ? "
"হিম, শেষান্ততখন আমি পাগলের মত ঘুরতে লাগলাম, কই থেকে কই যাই, কি থেকে কি করি কিছুই বুঝতে পারলাম নাওকে বারবার, কতবার বুঝালামকিন্তু কে শোনে কার কথাছেলেটার ভিতরে কি আছে তা বের করতে পারলাম নাঅসস্য ব্যাথায় ওদের ঘুরে বেড়ানো দেখছিহাসাহাসি -মাতামাতি দেখছিওরা খেলছে, সপ্ন বুনছে , আর আমি দিন দিন অর্থব হচ্ছি হাহাকারের চিতকারে '
"
আর সবার মত ঋতু তুমিও একই কাজ করলে, আমি ভেবেছিলাম তোমার শেষটা অন্যরকম হবেতুমিও সব ছেলেদের-মেয়েদের মত একই পথে গেলে "
" উপায় ছিল নাজাহাজ পানিতে ভাসে তার পরিমিত ওজন কম বলেপাথর টুকরো ডুবে যায় তার পরিমিত ওজন বেশি তাইআর ১০ জনের খবর রাখি না আমার তখন ডুবে যাবার সময়"
" কেদনাছেলেদের কাদতে দেখলে, মেয়েরা খুব বিরক্ত হয়মেয়েরা সর্বদা শক্ত ছেলেদের পছন্দ করেযারা চরম বিশ্রী পরিনতীতেও নিজেকে সামলে রাখতে পারে তাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধা করে মেয়েরা"
" সে-তো জানতাম নাজানলে ওর সামনে শক্ত-কঠিন ভাব মারতাম"
" তো কিএখন আবার মারবেসুস্থ হয়ে গিয়ে ওর সামনে শক্ত ভাব মারবেও থাকতে পারবেনা তোমায় ছাড়া"
" পুরো শুনে নাও মোহনাওদের আমি ফলো করতামনিজেকে দুক্ষ দিতে ভালো লাগতোচেনা জানা যারাই আছে তাদের বলে দিতাম ওরা কই গেল, কি করলো আমাকে সাথে সাথে জানাতেএকদিন সন্ধার পর আর পারলাম না, অর পিছনে রিক্সা নিয়ে যেতেই দেখি, ও একটা চিপা গলির ভাজে রিক্সা থামিয়ে, ভাড়া মিটিয়ে কাকে যেন ফোন দিল, ছেলেটা আসতেই ওরা গলীর প্রান্তে বাসাটাতে ঢুকে গেলআমিও গেলাম কিছুক্ষন পরসব তালাতেই খুজলাম পেলাম নাচলে আসতে যাব ওই সময়ে ভাবলাম ছাদটা দেখে আসিগেলামপুরো বাড়ি নিস্তব্দ, কেউ নেই কোথাওছাদে গিয়ে যা দেখলাম তা বোধহয় তোমাকে বলতে হবে না"
" আর এটা দেখে আপনি চক্ষু বিসর্জন দিলেন"
" না মেঘসেদিন চলে এলামআমার কষ্ট হচ্ছিলকিন্তু মনকে একটা সান্তনা দিচ্ছিলাম, যাই হোক না কেন, ও তো বেচে আছে, চাইলেই এক নজর দেখা যাচ্ছেমরে গেলে-ই বা হতো কি "
" পরে কয়েক মাস যেতেই ওই ছেলে  ওর সাথে কেমন কেমন শুরু করলোকারন আছে ইদানিং ছেলের কাছে ও আমার গল্প ঝারতোমানে পুরোনো প্রেম জেগে ওঠা আর কিছেলেটা বিরক্ত হয়ে, সম্পর্ক ছেদ করলোভেবেছিল, সাময়িক শাস্তি দিয়ে আবার গ্রহন করবেকিন্তু মেয়ে এটাই চাইছিলওকে ফেলে ছুটে এল আমার কাছে, আমি তখন মুখ ঘুড়িয়ে নিলামজান, মেঘ, ওকে ঐ সময়ে খুব হারাতে ইচ্ছে করছিলও হেরে গিয়ে মজা পেলবেশ কান্নাকাটিও করলোএকদিন ওই ছেলে রেগে ওদের পর্ন ভিডিও নেটে ছেড়ে দিলসকলে জেনে গেলমেয়ের বাসা দিয়ে একের পর এক ঝড় আসতে লাগলোও ছুটে  এল আমার কাছেআমি তখন  ওর নির্বুদ্ধিতার দোহাই দেখিয়ে ওকে অবরত বকা দিতে লাগলাম  ও বেড়িয়ে গেল, আমার বাসা দিয়েআর সে রাতে আন্তহত্যা করলোআর পুরো পেট কেটে লিখে গেল আমার নাম "
" কাটা চামচ ঢুকালে কেন?
" আর কিছু পাচ্ছিলাম না রে "
" যাই হোক, তিন দিন আমি আসবোনা আর তিন দিনের দিন তোমার অপারেশনআবার পৃথিবী দেখবে, কেমন লাগছে "
" বেশী ভালো লাগছে তোমায় দেখবোতুমি জান, আমি নতুন চোখ লাগাবো শুধুমাত্র তোমার জন্য "
" তা কিছুটা আছ করতে পেরেছি যাই হোক আমি তাহলে গেলাম আর মেয়েটার পুরো নাম কি ?
" সামিয়া আক্তার মন "
" আচ্ছা, ঋতু ভালো থেকো "
" দাঁড়াও মেঘ, এমন করেতো আগে কখনোই বলনি বলছো, মনে হচ্ছে একেবারেই চলে যাচ্ছ "

@@@@@@
মাত্রাধিক ড্রাগে ঋতুর মাঝে মাঝে হ্যালুসিনেশন হলো কখনো সামিয়া এল ও এগিয়ে গেল ধরতে দরজা থেকে মোহনার স্মেল এল ও গেল সরে শড়িরে ঘাম ঝেপে এল ওর হ্যালু গেল ভেঙ্গে
দিনে দিন আনে।সময় এল, অপারেশনের , দৃষ্টি ফিরে পাবার। সেদিন অন্ধ বালক খুজলো মোহনাকে, কোথায় যে গেল, আর খুজেই পাওয়া গেল না।থাক হয়তো ব্যস্ত হয়ে পরেছে।
কেটে গেল আরও ৪ দিন। দৃষ্টি ফিরে পেল ঋতু। বন্ধু ডাক্তারের সাথে দেখা করতে গেল। চা হাতে দৃষ্টী ও হাসি বিনিময়। ঋতুর মাথায় তখনো ধুরছে, মোহনার কিছু হলোনাতো।
“ তমাল, মোহনা নামের তোর নার্সটা কই ?”
“ ওই নামের কোনো নার্স নেই আমার “
“ রাতে আমার কাছে যে ডিউটি করতো “
“ হিম। ঋতু একটু স্থির হয়ে বস। কিছু কথা আছে।“
ঋতু বিপদ ও ঝামেলার গন্ধ পেল। বুকের ভিতরে  আতঙ্ক এল। কেন এমন হুচ্ছে তা ঋতু জানেনা। কিন্তু হচ্ছে।
“ দেখ ঋতু, নিজেকে নিয়ে তোর কোন ধারনা নেই। কবে থেকে পাগলামি করছিস। সবাইতো মেনে নিত। কেউতো কোনদিন তোকে অবহেলা করেনি। কি দরকার ছিল চোখের এমন ক্ষতি করা। তোর ক্ষতি দেশের ক্ষতি না।? “
“ আমি তোর কাছে জানতে চেয়েছিলাম “
“ ঋতু, অর নাম মোহনাই, কিন্তু অ নার্স না। অ একটা বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক। মানসিক বিকারগ্রস্থ ও হতাশা গ্রস্থ মানুশের উপরে একতা ডকুমেন্টরি করছে। তোর কেসটা আর ১০ ট আকেসের মত না তাই আগ্রহ প্রকাশ করলো। প্রথমে আমি বাধা দিয়েছিলাম। পরে মেয়েটা এমন করে ধরলো, মোহনা আমাকে কথা দিল, যেভাবেই হোক দৃষ্টি পুরুন্ধুধানে তোকে রাজি করাবে। তুই যেভাবে না করছিলি, তোর ও দেশের কথা ভেবে আর না করতে পারলাম না। ‘
ঋতু উঠে চলে এল। ঋতু আর কিছু শোনার নেই। জয় হোক সকল ডকুমেন্টরির। এবং তাদের মাতাদের। সকলের কাছে থাকুক একটি করে রেফারেন্স, আর একটি করে ডকুমেন্টরি।

ডাক্তারকে ঈশ্বর ধরে নেওয়া যেতে পারে। তার সৃষ্টি আর সৃষ্টির সৃষ্টশীলতার কথা চিন্তা করে তার একটা পদক্ষেপ, আর অর্থব জীবনে কোনো এক আগুন্তুকের আগমন। বদলে যাবার জন্য সামিয়াই যথেষ্ট, নতুন করে মোহনার দরকার ছিলনা, এর কোনো মানে নেই। অন্তত্য আমার কাছে নেই। বিশেষ করে ডকুমেন্টরির কোনো মানে নেই।


No comments:

Post a Comment