রাতুলের কপালে ঘাম গলছে। চোখ ফেটে স্রোত নামছে। কিছুতেই
ঠেকানো যাচ্ছেনা। রাতুল আর পারলোনা, প্রচন্ড শব্দ করে ভরা রাস্তায় কেদে উঠলো। রাতুলের বন্ধু রাতুলকে জড়িয়ে
ধরে স্বাত্তনা দিল। যা হবার তা হয়ে গেছে কাদলেও কিছুই হবেনা। রাতুল শব্দ করে নাক মুছলো।
তারপর বন্ধুকে বললো “ রিক্সা ঠিক কর, আমি সিমীনের বাসায় যাবো”
বন্ধু তাই করলো। রাতুলকে এখনো কাদছে। প্রচুর পরিমান। গলগল
করে চোখ দিয়ে পানি পরছে। রিক্সা এগিয়ে যাচ্ছে। রাতুল বন্ধুর কোলে মাথা রেখে শব্দ করে
কাদছে। বন্ধু মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
এখন থেকে ঠিক ৫ মিনিট আগে, রাতুলের বন্ধু রাতুলকে ফোন
দিয়ে বললো, সিমীন নাকি আন্তহত্যা করে মারা গিয়েছে। রাতুলের হাত থেকে ফোন পরে ভেঙ্গে
গিয়েছে।রাতুলের মাথায় আকাশ কেপে উঠলো। আমার সিমীন, আমার সিমীন আমি তোমাকে ভালোবাসি।
আমায় ছেড়ে যাওয়ার অর্থটা কি....।।
@@@@@
রাতুল স্মার্ট এবং বেশ পড়ুয়া ছেলে। বলতে গেলে এভাবে বলা
যায় যে ছেলেটা এক কথায় অসাধারন।সব দিক দিয়ে পারফেক্ট। রুপটা বর্ননা করার মত। রাতুল
একটু অস্থির ছেলে, এবং না ভেবে কাজ করা টাইপ সাইকোলজিতে নিয়মিত ভুগছে। যা মনে আসে তা
হঠাত করেই ফেলে। জাষ্ট ডু ইট। আগে পরে বেশ কয়েকবার প্রেম এসেছে ওর জীবনে। কিন্তু কাউকে
ও ভালোবাসেনি। এই সত্যটা যখন মেয়েগুলো বুঝতে পেরেছে নিজস্বে চলে গেছে। ঠিক সেই সময়ে
রাতুলের প্রানে প্রতিবারই এসেছে এক অনাবিল শান্তি। নিজেকে মনে হয়েছে হালকা ও প্রানবন্ত।
ভেবেছিল আর জড়াবে না এই অনুভুতির বাজে খেলায়। পেলে আদর না পেলে অভিশাপ, ভালোলাগেনা
রাতুলের।
কিন্তু নিয়তী পা বাধিয়ে দিল, কোচিং এর নতুন মেয়েটাকে এক
দেখাতে ভালো লেগে গেল রাতুলের। মেয়েটার নাম সিমীন। রাতুল প্রপোজ দিল, আর রাজী হয়ে গেল।
আর এভাবেই হয়ে গেল প্রেম, জরের মতো বেড়ে গেল তাপমাত্রা। শৌখিন হয়ে গেল নিয়মগুলো। কিন্তু
ধীরে ধীরে এসে গেল,ক্লাইম্যাক্স। সিমীনের উপর দিয়ে উঠে গেল ভালোলাগা। ভালোবাসাটা বোধহয়
একটু আছে। সে একান্তই নি্রর্থক মনে হয় রাতুলের। এখানে কেউ কারও না। তাছাড়া ব্যক্তিগতভাবে
সিমীন একটু কনজারভেটিভ। এটা কেন, ওটা কেন, অজশ্র প্রশ্নে হারিয়ে যায় মুঠেফোনের একান্ত
সময়গুলো। এই ধারা সৃষ্টি করলো বিরক্তির। রাতুল আসতে চাইলো সব ছেড়ে। সিমীনের প্রচন্ড
বাধার মুখে কয়েকদিন অনাগ্রহে চললো, কিন্তু রাতুলের মন একবার বলে ফেলেছে আর কোনো উপায় নেই। সিমীন প্রচুর
কান্নাকাটি করলো। কিন্তু রাতুল আবেগের বাড়াবাড়ি ভেবে সহ্য করে ফেললো। আর সরে এল।
@@@@@
ফোন কয়েকদিন বন্ধ থাকলো। একদিন খুলেছিল,সেইদিন ফোন দিয়ে
সিমীন প্রচন্ড কান্নাকাটি করলো। রাতুলের প্রচুর মেজাজ গরম হলো। অজশ্র বকা দিয়ে ফোন
কেটে দিল।
@@@@@
কদিন কথা একদম হচ্ছেনা। আজ হঠাত একটা কাজে মার্কেটে এসেছিল
রাতুল আর ওর বন্ধু। হঠাত করেই অন্য বন্ধুর থেকে ফোন আসলো। জানা গেল সিমীন মারা গেছে।
আন্তহত্যা করে। রাতুলের জন্য।
@@@@@
রিক্সা আস্তে চলছে দেখে রাতুল চিতকার দিয়ে উঠলো। যত তাড়াতাড়ি
সম্ভব সিমীনের বাসায় যেতে হবে। যেভাবে হোক ওকে বাচাবে রাতুল। যেভাবে হোক, যত প্রার্থনায়
হোক ওকে বাচাতে হবেই। মৃত প্রানে প্রানের সঞ্চার করবে শুধু মাত্র ভালোবাসা দিয়ে। এসব
ভাবছে রাতুল। এক সেকেন্ড কাটছে এক ঘন্টার মতো রাস্তাও শেষ হচ্ছেনা। ফোনটাও ভেঙ্গে গেছে
যে ওর বাসায় একটা ফোন দিয়ে দেখবে।
যাইহোক রাতুল রিক্সা দিয়ে নামলো। আইল্যন্ড বেয়ে দৌড়ে চলল।
বিভিন্ন বাক এড়িয়ে পেড়িয়ে ছুটে চলছে গন্তব্যের দিকে। ওর বন্ধুও পিছনে আসছে। হটাত রাতুল
চলে আসলো, মাঝে হাওয়া হলো একটা আর কিছুক্ষন ঘন্টা।
@@@@@
সীমিনের দিন কাটতো অনেক বিষন্নতায়। রাতুলের চলে যাওয়াটা
একদম মেনে নিতে পারেনি। অনেক ভেবেছে, ভেবে কুল কিনারা না পেয়ে ওর কাছে ক্ষমা চেয়েছে,
কত অনুরোধ করেছে তা শোনেনি রাতুল। বরাবরের মতো হিংস্র আচরন করেছে। তারপরেও কেন যেন
রাতুলকে ও অস্মভব ভালোবাসে। কিন্তু কষ্টগুলোর থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। অবিরত জালিয়ে
যাচ্ছে।
কিন্তু ঠিক এই মুহুর্তে সীমিনের চাই মুক্তি । একফোটা মুক্ত
বাতাস। অনেক ভেবে চিন্তে সীমিন নতুন একটা সম্পর্ক করবে বলে ভাবলো। নতুন কাউকে নিয়ে
থাকলে হয়তো রাতুলকে ভোলা যাবে।
@@@@@
রাতুল সীমিনের বাসার সামনে এসে দেখলো সীমিন বারান্দায়।
বাসার সরাসরি একটা ছেলে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটা ইশারায় কি যেন বললো। সিমীন হঠাত
করেই রাতুলকে দেখতে পেল। রাতুলকে সাথে সাথে ফোন দিল কিন্তু রাতুলের ফোন বন্ধ।
সীমিনকে হাটতে-চলতে দেখে রাতুলের মাথার উপর দিয়ে সকল দুশ্চিন্তা
আড়াল হয়ে গেল। মনে হলো বুকে প্রান ফিরে এল। আর সাথে সাথেই রাতুলের ওর বন্ধুর কথা মনে
পরে গেল। যে সীমিনের মৃত্যুর খবরটা দিয়েছিল। রাতুল ওর বন্ধুর ফোন নিয়ে ফোন দিল।
" রাজীব, সীমিনের কথাটা তুই কিভাবে জানলি?"
" এমনিই"
" মানে?"
" দোস্ত, এপ্রিল ফুল"
" শালা মাদারচোদ"
আরও কিছু গালি দিতে গিয়েও পারলোনা কারন লাইন কেটে গিয়েছে। রাতুল এখান থেকে চলে আসলো। আসার পথে বন্ধুর ফোন দিয়ে সীমিনকে ফোন দিল।
@@@@@
ভাবনা অনুসারে আরেক ছেলের সাথে সীমিন প্রেম করলো। কিন্তু
শান্তি এলনা। সীমিন বুঝতে পারলো, নতুন ছেলেটার ভিতরে সে হারিয়ে যাওয়া রাতুলকে খুজছে।
এবার সীমিন শেষ চ্যান্স নিল কিন্তু রাতুলের থেকে কোন সারা না পেয়ে নতুন প্রেম চালিয়ে
যেতে লাগলো। আর ধীরে ধীরে এই ছেলেটার ওর সাথে লেগে থাকাটা ভালো লাগলো। অন্তত্য এই একটা
দিক রাতুলের ছিলনা যা এই ছেলের আছে। আর এই জন্য হলেও ওকে ভালোবাসবে বলে ভাবলো সীমিন।
@@@@@
রাতুল রিক্সায় বসে সীমিনকে ফোন দিল। শুরু হলো কথা। কোথায়
ছিলে, কেমন ছিলে, বাসার সামনের ছেলেটা কে ? সীমিনও ছেড়ছে না। বলে চলেছে অবিরত। কত আল্লাদ।
তীব্র একটা ভালোলাগায় ভরে গেল সীমিনের মন। আহা, এত শান্তি কথা বলায়। কেন যেন মনে হচ্ছে
কথাগুলো একদম ভিতর থেকে উঠে আসছে। কিন্তু কথা বলার শেষের দিকে, সীমিন কিছু সত্য রাতুলের
সামনে উপস্থাপন করলো। রাতুলের মনে হলো এ কথা শোনার থেকে মরে যাওয়াও ভালো। সীমিন ফোন
রেখে দিল রাতুলের উপর সীধান্ত দিয়ে। সীমিনকে গ্রহন করবে কিনা?
@@@@@
কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। সীমিন জানে সে নতুন ছেলেটাকেও
ভালোবাসে। তারজন্যেও খারাপ লাগে কিন্তু সীমিন এটাও জানে রাতুলকে ও সবথেকে বেশী ভালোবাসে।
রাতুল একদিকে আর সারা পৃথিবী একদিকে। কিন্তু যেহেতু রাতুল তাকে ভালোবাসেনা, সেক্ষেত্রে
ওর এই ভালোবাসার কোন দাম নেই। তাই যেভাবেই হোক রাতুলকে ওর ভুলতে হবে। যেভাবেই হোক।
জেদ চেপে গেল।
এরই মধ্যে কোন এক বান্ধবীর বুদ্ধিতে কাজটা করে ফেললো সীমিন।
ওর নতুন প্রেমিকের সাথে কাটিয়ে এল একটা দিন। কিন্তু বুঝে গেল এভাবেও কাজ হইনি। আর হবেও
না। রাতুল ওর মন থেকে উঠবেনা। যৌনতার ওই সময়টাতেও সীমিন রাতুলকে দেখেছে। হটাত আদরে
ব্যস্তরত প্রেমিককেও ওর রাতুল বলে মনে হলো। সাময়িক ঘোরটা ভাংতেই ঘৃনায় বিষিয়ে এল মন।
কি করলাম আমি। ভালোবাসি একজনকে আরেকজনের সাথে এসব কি করছি আমি। কিন্তু তখন ফিরে আসার
আর সময় নেই। এখন সময় আনন্দের। আর সেই চিরায়িত , প্রাচিন আনন্দে গা ভাসিয়ে দিল সীমিন।
দিন যায় দিন আনে যৌনতা। ছোয়াছে মায়াবী আদর আখড়ে থাকে সারা শরীর। একবার দুইবার, বারবার।
সীমিন প্রতিনিয়ত ভাসে সেই প্রাপ্তবয়স্কদের অনাবিল গ্লামারে। কিন্তু তারপরেও তার রাতুলকে
ভোলা হলোনা.......।।
@@@@@
সব শোনার পর রাতুলের মাথার আকাশ ভেঙ্গে পরলো। সীমিন এসব
কি বলছে। শেষকথাগুলো ছিল,
এসব জেনেও কি আমাকে গ্রহন করবে রাতুল? তোমার করা উচিত।
কারন এসব তোমাকে ভোলার জন্য। মজার কথা হলো সেটা পসিবল হয়নি। এখনো আমি তোমায় ভালোবাসি।
রাতুল আমাদের বিচ্ছেদের পর যেকোন সময় যদি কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করতো শেষ কবে কেদছো।
আমি বলতাম এইতো কিছুক্ষন আগেই। রাতুল আমি এখন রাখছি, এর বেশী কিছু তোমার শোনার দরকার
নেই। আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিও।
@@@@@
রাতুলের আর কি করার আছে। রাতুল বুঝতে পেরেছে ও আসলে বেশ
ভালোবাসে সীমিনকে। আর যখনই বুঝতে পারলো তখন সব এলোমেলো হয়ে গেল। এপ্রিল ফুল এপ্রিলে
কেন হয় জানুয়ারিতে হয় না কেন। যত আগে রাতুল
বুঝতে পারতো ওর এই ভালোবাসার কথা ততখানি গল্পের ভয়াবহতা কমতো।
যাই হোক রাতুল সব ভেবে দেখলো, জীবনটা একটা চক্র। যা করেছে
তাই ফিরে আসবে। সব মেনে নিয়েই সীমীনকে গ্রহন করলো
@@@@@
খুশিতে আন্তহারা হয়ে গেল সীমিন। ফোন দিয়ে সবগুলো বান্ধবীকে
জানিয়ে দিল খবর। গানে গানে মুখোরিত হয়ে গেল ওর ঘর। বের করা হলো পুরোনো বিছানার চাদর।
সেই চাদরের মায়াময় গন্ধে আছে রাতুলকে বোনা একান্ত কিছু সপ্ন। আর টু বি কন্টিউড হবে
এখনী। হঠাত করেই সীমিনের ফোন আসলো। ভাবলো রাতুলের ফোন। দেখলো ওর নতুন প্রেমিকের ফোন।
বুকটা কেপে উঠলো।
ধীরে ধীরে সীমিন সব বললো ছেলেটাকে। রাতুলের কথা শুনে ছেলেটা
কিছুই বললো না। চুপ চাপ শুনে গেল।
"কি করতে
চাও সীমিন?"
" মানে, আসলে, তুমি আমাকে ভুলে যাও"
" আচ্ছা। সীমিন বরং তুমি আমাকে ভুলে যাও। আর বিদায়
তোমার থেকে।"
ছেলেটা ফোন রেখে দিল এবং ঐ রাতেই মাত্রাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে দুর্ঘটনা ঘটালো। প্রচন্ড অসুস্থ
হয়ে হাসপাতে ভর্তি হলো। শেষবারের মতো বেচে গেল। আর এসব কথা শুনে সীমিনের অসস্থি হতে
লাগলো।
সুস্থ হয়ে ছেলেটা ফোন দিল।
" মিন, আমার পাশে থাকবে?"
" হ্যা, থাকবো। কিন্তু একদম পাগলামি করবে না।"
" আর রাতুল ?"
" সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও"
@@@@@
No comments:
Post a Comment