সেন ও পার্থিব- মাইক্রো গল্প-৩

কিছুদিন পরেই সেনের পরীক্ষা।সারাবছর ঘুরে কাটিয়েছে।বইয়ের সাথে বিচ্ছেদ, স্মরন করার মত আবেগী সেন না। দুদিন দেখছি বেশ স্মৃতি হাতড়ানোর মত করে বই পড়ছে। পাশের নেশায় কড়া মাতলামি। কিন্তু এত পড়া ক'দিনে কিভাবে শেষ হবে? শান্তিনিকেতনের ওই লোকটাও বোধহয় পারতেন না। সেন বান্ধবীদের দেখাদেখি সাব্জেক্ট টিচারকে ফোন দিয়ে পটিয়ে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি পাশে বসে স্যারের সাথে ওর ফোন আলাপ শুনছি। মেয়েরা বেশ ছলনাময়ী। কেমন ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলছে। হাদিসে বর্নীত, মহানবী বলছে মহিলাদের উদ্দেশ্যে" আমি দেখেছি জাহান্নামে অধিকাংশই নারী। কারন তোমরা ছলনাময়ী।
কথাবলার মাঝপথে সেন হঠাত থমকে গেল। ফোনটা কেটে দিয়েই বালিশ ছুড়ে মারলো। আমি বুঝতে পেরেছি স্যার বাজে প্রস্তাব দিয়েছে। এটা হবে আমি জানি। তারপরও বলিনি। প্রশ্নপত্র আগে পাবে, আমার সাথে রাত কাটাবে এই তত্ত্ব ওর জানা উচিত।
আমাকে বললো " একটা কাজ করে দিবি আমাকে? "
" কি কাজ? "
" যেকোনো কাজ, সেটা খুনও হতে পারে। আমার জন্যতো তোর সব পারা উচিত। নাকি ? "
" হিম পারবো। কিন্তু হঠাত "

সেন কাপছে। আমি বুঝতে পারছি সেন বেশ ক্ষেপে আছে। মস্তিকের গতীর থেকে ওর চিন্তা ভাবনার গতী বেড়ে গিয়েছে। ফলে দুটো মিলে জট পাকিয়ে গেছে। এখনো ও Anxity আক্রান্ত  । এটা থামানোর জন্য বেশ কয়েকটা ভারি ভারি ওষুধ আছে। কিন্তু সেসবের সময় কই। এখন দরকার প্রাথমিক চিকিতসার। নাহলে উত্তেজনায় বশিভুত হয়ে যা মনে আসে তাই করে ফেলতে পারে। আমি পানি এনে ওর হাতে দিলাম। বললাম
" সেন, তুই উত্তেজিত নাহয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা কর। পরে বল, আমাকে কি করতে হবে ?"
" আমার মাথা ঠান্ডা। এই গ্লাসের মোট ৩.৫০ গ্লাস পানিতে এক লিটার। আমি গনীত করতে পারছি। তারমানে আমার মাথাও ঠান্ডা। ষ্পষ্ট ?
" না অষ্পষ্ট। এটা তোমার মুখস্থ। আচ্ছা তুই ঝটপট, ৫ খানা প্রশ্নের উত্তর দে, সঠিক হলে যা বলবি তাই করবো।"
আমি প্রশ্ন ছুড়লাম, দ্রুততার সাথে "
" মহেশ গল্পটা কে লিখেছেন "
" শরতচন্দ্র চট্টাপাধ্যায়"
" দুর্গেশ নন্দিনী?"
" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টাপ্যাধ্যায়"
" হৈমন্তী ?"
" রবীন্দ্রনাথ চট্টাপ্যাধ্যায়"
আমি হাসি দিলাম। দিয়ে ওর হাত থেকে গ্লাস নিয়ে চলে এলাম। ও থমকে থাকলো। এটাই প্রাথমিক চিকিতসা। ভিকটিমকে বুঝতে দেওয়া যে সে উত্তেজনায় তার বুদ্ধিমত্তা লোপ পেয়েছে।

No comments:

Post a Comment